বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
বেহাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মশক নিধোন স্প্রে না করায় মশা, মাছি আর দুর্গন্ধে অতিষ্ট লালমনিরহাট পৌরবাসী। করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারনে ঘর থেকে বাহির হতে না পারায় ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের।
গত বছর লালমনিরহাটে ১শ ২০জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও একজনের মৃত্যু হলেও এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম কোন উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। যদিও তা অস্বীকার করেছেন পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু।
পৌরসভার অধিকাংশ ড্রেনগুলো ভাংগাচোরা এবং ময়লা আবর্জনা দিয়ে ড্রেন গুলো বন্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও আবার ড্রেনের মুখ সম্পূর্ণ উন্মক্ত। এতে করে মশা, মাছির উপদ্রব তো আছেই পাশাপাশি দুর্গন্ধেও অতিষ্ট হয়ে পড়েছে পৌরবাসী। ড্রেনের ময়লা পানি নিস্কাসনের জন্য নিজ উদ্যোগে অনেকে উন্মক্ত ড্রেন থেকে মাটি তুলে মুল সড়কের পাশেই রাখছে। এতে করে চলাচলের অসুবিধার সাথে বাড়ছে দুগর্ন্ধ। আর প্রতিদিন ময়লার ভাগার পরিস্কার না করায় ময়লার স্তুপে ভীর বাড়ছে মশা মাছির। এতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা পিছু ছাড়ছে না অনেকের। আর সামান্য বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ভোগান্তি তো আছেই।
পৌর শহরের বিডিআরহাট এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হক বলেন, করোনার ভয়াবহতায় এমনিতেই আমরা ঘর থেকে বাহিরে যেতে পারছি না। তার উপর মশার উপদ্রুপে ডেঙ্গুর ভয়ে ঘরেও থাকা যাচ্ছে না। এ যেন মরার উপর খরার ঘা। লালমনিরহাটে ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আমরা পৌরবাসী চরম আতঙ্কে রয়েছি। আমি আশা করবো ডেঙ্গু আতঙ্ক থেকে পৌর মেয়র দ্রুত পৌরবাসীকে মুক্ত করবেন। ইতিমধ্যে লালমনিরহাটে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শহরের নর্থবেঙ্গল মোড় এলাকার রতন মিয়া বলেন, শুধু আমাদের নর্থবেঙ্গল মোড়েই নয়, শহরের অধিকাংশ এলাকায় ময়লা আবর্জনায় ড্রেন গুলো বন্ধ হয়ে আছে। যার জন্য সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রুপে ঘরে থাকাই যায় না। মশার কয়েল দেয়ার পরও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা পৌরবাসী করোনা আতঙ্কের সাথে এই ডেঙ্গু আতঙ্কেও দিন পার করছি। আমরা পৌরবাসী দ্রুত করোনার সাথে ডেঙ্গু আতঙ্কের অবসান চাই।
সরকার নির্ধারিত পৌর ট্যাক্স দেওয়ার পরও সুবিধা পাচ্ছেন না পৌরবাসী এ বিষয়ে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযান চালু আছে বলে দাবি করেছেন। পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শহরকে পরিস্কার রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারনে কিছু কিছু এলাকায় একটু সমস্যা আছে। তারপরেও পৌর কর্তৃপক্ষ শহরকে পরিস্কার রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির কথা জানাতে চাইলে লালমনিরহাট সিভিল সার্জেন ডাঃ নির্মলেন্দু রায় জানান, ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু সনাক্তের জন্য ৫শ কিট এসেছে তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। লালমনিরহাটে এখন পর্যন্ত কোন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়নি। তারপরেও পৌর মেয়র শহরবাসীকে ডেঙ্গু আতঙ্ক থেকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করছি।
শহরকে বসবাসের উপযোগী করতে দ্রুত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা ও মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী নগরবাসীর।